বাউনডুলে

বাউনডুলে
Featured Post Today
print this page
Latest Post

জিপি ইন্টারনেট মডেমে এর সাথে অন্য মোবাইল অপারেটরের ইন্টারনেট সিম ব্যবহার করুন

জিপি মডেমে আরেকটি মোবাইল অপারেটরের সিম কিভাবে ব্যবহার  করা যায় তা নিচে দেখুন




  • Connect GP Internet Modem with your PC Then GP internet Modem Default Software will Open
  • Go To Tools –>Options–>Profile Management
  • By Default GP-INTERNET Profile name have been selected
  • Now Select New From Right Side panel
  • For Robi Internet Write This Below Settings
Profile Name: Robi-INTERNET APN Static/APN : internet Access Number:*99***1# Now Enter your Robi Sim Then Select Profile Name Robi-INTERNET Then Click Connect From GP Modem software 
For Airtel Internet Follow This Below settings
Profile Name: Warid-INTERNET APN Static/APN : internet Access Number:*99***1# Now Enter your Warid Sim Then Select Profile Name Warid-Internet Then Click Connect From Gp Modem softwar  

For Banglalink Internet Follow This Below settings
Profile Name: Banglalink-WEB APN Static/APN : blweb Access Number:*99***1# Now Enter your Banglalink Sim Then Select Profile Name Banglalink-web Then Click Connect From Gp Modem software 
For Teletalk User use this below settings
Service Type – No Use No Pay
APN wap
IP 192.168.145.101
Port (optional) 9201

Service – Monthly/Daily Unlimited
APN gprsunl
IP 192.168.145.101
0 comments

কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে কি করবেন? সহজ সমাধান



বর্তমানে আমরা সবাই কম্পিউটার বা ল্যাপটপ নির্ভর।প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট যেমন সেভ থাকে তেমনি নিজেও থাকা যায় চিন্তামুক্ত। আর এ ল্যাপটপ বা কম্পিউটারকে সেভ রাখতে প্রয়োজন পাসওয়ার্ড। কারণ পাসওয়ার্ড ব্যবহারে অন্য কেউ এটি ওপেন করতে পারবে না। পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নিজের কম্পিউটারটি নিরাপদে রাখলেও দুশ্চিন্তায় পড়তে হয় যখন এই পাসওয়ার্ডটি মনে থাকে না। বেশ কয়েকটি পদ্ধতিতে এ সমস্যা সমাধান করা যায়।
পদ্ধতি :
যে সব কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম উইনডোজ XP সেগুলার অধিকাংশতেই administrator account হিডেন থাকে এবং কোনো পাসওয়ার্ড থাকেনা।
পিসি রিস্টাট দেয়ার পর ওয়েলকাম স্কিন / উইনডোজ লগঅন স্কিন ওপেন হবে,
সেখান থেকে অ্যাডভান্সড লগইন স্কিন এ যেতে হবে।
এইজন্য পরপর দুইবার একইসাথে CTRL+ALT+DEL প্রেস করুন।
এবার টাইপ ইউজার নেইম Administrator এবং enter প্রেস করে লগইন করুন এবং আপনার একাউন্ট রিসেট করে নতুন পাসওয়ার্ড সেট করুন।
একাউন্ট রিসেট করে নতুন পাসওয়ার্ড সেট করার জন্য ক্লিক Start এবং তারপর ক্লিক Run।
Run এর বক্স এ “control userpasswords2″ টাইপ করুন কোনো quotes ছাড়াই।
এখন আপনি এখান থেকে administrators অ্যাকাউন্ট সহ সব অ্যাকাউন্টই অ্যাকসেস করতে পারবেন এবং আপনার হারানো পাসওয়ার্ড রিসেট করতে পারবেন।
administrator/অন্য যে কোনো ইউজার একাউন্ট এ ক্লিক করুন এবং ক্লিক Reset Password.
একটা নতুন পাসওয়ার্ড সেট করে কনফার্ম করে OK ক্লিক করে বের হয়ে আসুন।
পিসি রিস্টাট দিয়ে পুনরায় লগইন করুন।
0 comments

আপনার কম্পিউটার এর জন্য প্রয়োজনীয় ১১৫ টি রান কমান্ড দেখে নিন

আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব আপনার কম্পিউটার এর জন্য ১১৫ টি রান কমান্ড ।
 1. Accessibility Controls - access.cpl
2. Accessibility Wizard - accwiz
3. Add Hardware Wizard - hdwwiz.cpl
4. Add/Remove Programs - appwiz.cpl
5. Administrative Tools - control admintools
6. Automatic Updates - wuaucpl.cpl
7. Bluetooth Transfer Wizard - fsquirt
8. Calculator - calc
9. Certificate Manager - certmgr.msc
10. Character Map - charmap
11. Check Disk Utility - chkdsk
12. Clipboard Viewer - clipbrd
13. Command Prompt - cmd
14. Component Services - dcomcnfg
15. Computer Management - compmgmt.msc
16. Control Panel - control
17. Date and Time Properties - timedate.cpl
18. DDE Shares - ddeshare
19. Device Manager - devmgmt.msc
20. Direct X Troubleshooter - dxdiag
21. Disk Cleanup Utility - cleanmgr
22. Disk Defragment - dfrg.msc
23. Disk Management - diskmgmt.msc
24. Disk Partition Manager - diskpart
25. Display Properties - control desktop
26. Display Properties - desk.cpl
27. Dr. Watson System Troubleshooting Utility - drwtsn32
28. Driver Verifier Utility - verifier
29. Event Viewer - eventvwr.msc
30. Files and Settings Transfer Tool - migwiz
31. File Signature Verification Tool - sigverif
32. Findfast - findfast.cpl
33. Firefox - firefox
34. Folders Properties - control folders
35. Fonts - control fonts
36. Fonts Folder - fonts
37. Free Cell Card Game - freecell
38. Game Controllers - joy.cpl
39. Group Policy Editor (for xp professional) - gpedit.msc
40. Hearts Card Game - mshearts
41. Help and Support - helpctr
42. HyperTerminal - hypertrm
43. Iexpress Wizard - iexpress
44. Indexing Service - ciadv.msc
45. Internet Connection Wizard - icwconn1
46. Internet Explorer - iexplore
47. Internet Properties - inetcpl.cpl
48. Keyboard Properties - control keyboard
49. Local Security Settings - secpol.msc
50. Local Users and Groups - lusrmgr.msc
51. Logs You Out Of Windows - logoff
52. Malicious Software Removal Tool - mrt
53. Microsoft Chat - winchat
54. Microsoft Movie Maker - moviemk
55. Microsoft Paint - mspaint
56. Microsoft Syncronization Tool - mobsync
57. Minesweeper Game - winmine
58. Mouse Properties - control mouse
59. Mouse Properties - main.cpl
60. Netmeeting - conf
61. Network Connections - control netconnections
62. Network Connections - ncpa.cpl
63. Network Setup Wizard - netsetup.cpl
64. Notepad - notepad
65. Object Packager - packager
66. ODBC Data Source Administrator - odbccp32.cpl
67. On Screen Keyboard - osk
68. Outlook Express - msimn
69. Paint - pbrush
70. Password Properties - password.cpl
71. Performance Monitor - perfmon.msc
72. Performance Monitor - perfmon
73. Phone and Modem Options - telephon.cpl
74. Phone Dialer - dialer
75. Pinball Game - pinball
76. Power Configuration - powercfg.cpl
77. Printers and Faxes - control printers
78. Printers Folder - printers
79. Regional Settings - intl.cpl
80. Registry Editor - regedit
81. Registry Editor - regedit32
82. Remote Access Phonebook - rasphone
83. Remote Desktop - mstsc
84. Removable Storage - ntmsmgr.msc
85. Removable Storage Operator Requests - ntmsoprq.msc
86. Resultant Set of Policy (for xp professional) - rsop.msc
87. Scanners and Cameras - sticpl.cpl
88. Scheduled Tasks - control schedtasks
89. Security Center - wscui.cpl
90. Services - services.msc
91. Shared Folders - fsmgmt.msc
92. Shuts Down Windows - shutdown
93. Sounds and Audio - mmsys.cpl
94. Spider Solitare Card Game - spider
95. SQL Client Configuration - cliconfg
96. System Configuration Editor - sysedit
97. System Configuration Utility - msconfig
98. System Information - msinfo32
99. System Properties - sysdm.cpl
100. Task Manager - taskmgr
101. TCP Tester - tcptest
102. Telnet Client - telnet
103. User Account Management - nusrmgr.cpl
104. Utility Manager - utilman
105. Windows Address Book - wab
106. Windows Address Book Import Utility - wabmig
107. Windows Explorer - explorer
108. Windows Firewall - firewall.cpl
109. Windows Magnifier - magnify
110. Windows Management Infrastructure - wmimgmt.msc
111. Windows Media Player - wmplayer
112. Windows Messenger - msmsgs
113. Windows System Security Tool - syskey
114. Windows Update Launches - wupdmgr
115. Windows Version - winver
0 comments

ইন্টারনেটে দেখুন ঝকঝকে বাংলা লেখা


ইউনিকোডে বাংলা ভাষা যোগ হওয়ায় ইন্টারনেটে সহজেই বাংলা পড়া ও লেখা যায়।
উইন্ডোজ এক্সপি ও ৭ সম্পূর্ণ ইউনিকোড সমর্থিত না হওয়ায় অনেক সময় বাংলা লেখা এলোমেলো এবং অস্পষ্টভাবে দেখতে হয়। ইন্টারনেট ব্রাউজার ফায়ারফক্সের সঙ্গে Arial Unicode MS নামের ফন্ট স্বয়ংক্রিয় ইন্সটল হয়ে ব্রাউজারে বাংলা লেখাকে উল্টাপাল্টা দেখায়। এটি মুছলে লেখা আর এলোমেলো দেখা যাবেনা।
এটি মুছতে হলে যা করনীয়ঃ
রানে গিয়ে fonts লিখে এন্টার করুন। এবার এখানে Arial Unicode MS ফন্টটি খুজে নিয়ে Shift+Del চেপে সেটি মুছে ফেলুন। এবারে ব্রাউজারে কিছু কাজ করতে হবে। ফায়ারফক্সের জন্যঃ Firefox বোতামে ক্লিক করে Tools>option-এ যান। Content ট্যাবের Fonts and colors- এর Advanced বোতামে ক্লিক করুন। Fonts for এ Bengali নির্বাচন করে Proportional এ Sans Serif নির্বাচন করুন। এখানে serif এবং sans serif বক্সে ইন্সটল থাকা ইউনিকোড ফন্ট দেখাবে অথবা আপনার পছন্দমতো ইউনিকোড ফন্ট নির্বাচন করে size ঘরে ১৬ দিয়ে Minimum font size-এ ১৭ করে ok করুন।
Google Chorme এর জন্য মেনু থেকে Settings-এ যান। Show advanced settings এ ক্লিক করে Web content এর Customize fonts এ ক্লিক করুন। Standerd font, serif font, sans serif font এ ইন্সটল থাকা ইউনিকোড বাংলা ফন্ট ( যেমনঃ SolaimanLipi) নির্বাচন করে Minimum font size এ ১৫ নির্ধারণ করে ok করলে অনলাইনে যেকনো সাইটে বাংলা লেখা ও স্পষ্ট ভাবে দেখা যাবে।
Note: একটি দৈনিক পত্রিকা থেকে সংগৃহীত।
0 comments

চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ করে মোটরবাইকের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলে? কি করবেন ?

মোটরবাইক চালাচ্ছেন। চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ করে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেল? এখন উপায়? ভয় পাওয়ার কিছু নেই। মাথা ঠাণ্ডা রেখে মোটরবাইকের কিছু টিপস মনে রাখলেই এ ধরনের ঝামেলা থেকে উদ্ধার হওয়া যাবে।



স্টার্ট করার আগে যা করবেন
* দুই থেকে তিনবার ব্রেক করে দেখুন, ব্রেক ঠিকমতো কাজ করছে কি না
* ক্লাচ ধরছে বা ঠিক আছে কি না দেখে নিন।
* কোনো টিউবে হাওয়া (প্রেশার) খুব কম থাকলে তা সাধারণত খালি চোখেই বোঝা যায়। সামান্য কম মনে হলেও অবহেলা করবেন না। আর এটা আপনি বাইক চালানোর সময়ই বুঝতে পারবেন। বাইকের টিউবে হাওয়া কম থাকলে চালানোর সময় ভারসাম্যগত ঝামেলা হতে পারে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে। আর টিউবে হাওয়া কম থাকলে বাইকের তেলও খরচ হয় বেশি।
* প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, যেমন- স্টার স্ক্রু ড্রাইভার, প্লাগ রেঞ্চ বাইকে আছে কি না দেখে নিন।
* অনেকেই নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বাইক সার্ভিস করাতে চান না। রুটিন-মাফিক সার্ভিস করালে হঠাৎ বিকল হওয়ার হাত থেকে অনেক ক্ষেত্রেই রক্ষা পাওয়া সম্ভব। সাধারণত ১০০০ কিলোমিটার চলার পর বাইকের ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করতে হবে।
* গাড়ি চালানোর সময় বাইকের নিবন্ধন সনদ, ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস সনদ, বীমা সনদ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স সঙ্গে রাখুন। এ জন্য একটা ছোট ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন।
* মোটরবাইকের ইঞ্জিন থেকে পেছনের চাকায় শক্তি সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজটা করে চেইন। যথাযথ তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ না করলে এটা ছিঁডে যেতে পারে। ঢিলে হলে টাইট করে নেওয়াটাই ভালো হবে।
চলার পথে
* চলন্ত অবস্থায় ফোনকল না ধরাই ভালো। তবে একান্তই ফোনকল ধরতে চাইলে অবশ্যই জায়গা বুঝে বাইকটি পার্ক করুন। নির্দিষ্ট স্থানে জায়গা না থাকলে মূল রাস্তায় না রেখে আশপাশের এমন রাস্তায় রাখুন, যেখানে যানবাহনের চলাচল কম। এতে বড় কোনো দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচতে পারবেন আপনি।
* ভারী যানবাহনের ডান দিক (যদি সেখানে অল্প জায়গা থাকে) দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। যদি একান্তই সেই সুযোগ থাকে, তাহলে বাইকের হর্ন অল্প বিরতিতে বাজাতে বাজাতে বের হয়ে যান। তার আগে নিশ্চিত হোন, আপনি কী করতে যাচ্ছেন ভারী যানবাহনের চালকটি সেটা বুঝতে পেরেছেন কি না।
* ব্যস্ত রাস্তায় বাইক চালানোর সময় বিভিন্ন ঘটনা ও পরিস্থিতির সঙ্গে আপনাকে দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে। তাই দ্রুত তাল মেলাতে হলে আপনাকে ডান পায়ের আঙুল পেছনের ব্রেক প্যাডেলের ওপর রাখতে হবে। আর মাঝেমধ্যে আপনাকে এমন সব পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হতে পারে, সে জন্য আপনার উপস্থিত বুদ্ধি আর দক্ষতার ওপরই ভরসা রাখতে হবে।
* ট্রাফিক সিগন্যালগুলোতে পৌঁছানোর আগে থেকে বাইকের গতি কমিয়ে ফেলুন। এতে আপনার তেল আর ব্রেক প্যাডেলের ক্ষয় হবে কম। হার্ডব্রেক আপনার দেহের জন্যও ক্ষতিকর। এটা মাথায় রাখার চেষ্টা করুন।
* ভাঙা ও উঁচু রাস্তায় কম গতিতে বাইক চালান। যদি দেখেন, হঠাৎ স্পিডব্রেকার চলে এসেছে সামনে আর বাইকের গতিও কমাতে পারছেন না। তাহলে ওই অবস্থায় সিট থেকে আপনার কোমর একটু উঁচু করুন। এতে আপনার শরীরে ঝাঁকুনি অনেক কম লাগবে।
* গতিশীল অবস্থায় ভারী যানবাহনের কাছাকাছি পেছনে থাকবেন না।
* লেন পরিবর্তনের নিয়ম মেনে চলুন। পরিবর্তন করার আগে সিগন্যাল দিন। বাইকের দুই পাশের আয়নায় (লুকিং গ্লাস) দেখুন, বাকি লেনগুলোর গাড়িগুলো নিরাপদ দূরত্বে আছে কি না। এরপর ধীরে ধীরে কাঙ্ক্ষিত লেনে প্রবেশ করুন। বাইকের জন্য ঘন ঘন লেন পরিবর্তন করা ঠিক নয়।
* মোড় নেওয়ার সময় অবশ্যই সিগন্যাল (ইন্ডিকেটর) ব্যবহার করুন। বাঁয়ে বা ডানে মোড় নিতে হলে সময় নিয়ে আগে থেকে সংশ্লিষ্ট লেনে আসুন, তারপর মোড় নিন।
* টপ গিয়ারে রেখে গতিসীমা ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে রাখলে বাইকের তেল খরচ কম হয়।
* শীতে দীর্ঘসময় বাইক না চালালে কিক দিয়েই বাইক চালানোর চেষ্টা করুন। এতে ব্যাটারির ক্ষতি হবে কম।
* চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ করে মোটরবাইকের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেল ঘাবড়ে যাবেন না। সেলফ স্টার্টার থাকলে চলন্ত অবস্থায় দ্রুত নিউট্রল করে স্টার্ট দিয়ে আবার (বন্ধ হওয়ার সময় যে অবস্থায় ছিল) আগের গিয়ারে নিয়ে আসুন।
1 comments

লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ


আজ দেখাবো কিভাবে লিনাক্স ইন্সটল করবেন। মোটামুটি সকল লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন ইন্সটল করার নিয়ম একই। তবে ভার্শনভেদে একটু আধটু পার্থক্য থাকতে পারে। এখানে আমি লিনাক্স মিন্ট ১২ এর ইন্সটল করার নিয়ম দেখাচ্ছি। একই ভাবে উবুন্টু, বিভিন্ন ডেবিয়ান, এলএক্সডিই ও এক্সএফসিই রিলিজ ইন্সটল করা যাবে। চলুন দেখি কিভাবে।
  •  লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!! প্রথমে ডাউনলোড করা ISO টি পেন ড্রাইভে অথবা ডিভিডি-তে বার্ন করে নিন। এবার সেটা কম্পিউটারে লাগিয়ে রিস্টার্ট দিন। বুট মেনু থেকে সরাসরি ইউএসবি/ডিভিডি ড্রাইভ সিলেক্ট করে নিন। অথবা বায়োসে যেয়ে ইউএসবি/ডিভিডি “1st Boot Device” করে দিন (যদি পুরনো পিসি হয়)।
  •  লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!! বুট করার পর কিছুক্ষণ পর লিনাক্সের ডেস্কটপ আসবে। এই সময়টুকু অপেক্ষা করুন, কেননা সিস্টেম চালাতে দরকারী ফাইল কপি হয়ে র‍্যামে জমা হবে। ডেস্কটপ নিচের মত দেখাবে।
Desktop লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!!
  •    লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!!   Install লেখা শর্টকাটে ক্লিক করুন। প্রথমেই আপনকে ভাষা নির্বাচন করতে হবে। চাইলে বাংলা নির্বাচন করুন। ভয় নেই, লিনাক্সে খুব সুন্দর বাংলা লেখা ও দেখার সুবিধা রয়েছে।
Language লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!!
  •     লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!!    Continue বাটনে ক্লিক করুন। এবার ইন্সটল করার প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো উপস্থিত কিনা তা দেখাবে। বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউশন অনুযায়ী ৪-১০ গিগাবাইট সম্পন্ন ড্রাইভ, ল্যাপটপ হলে সঠিক পরিমাণ চার্জ আছে কিনা এবং ইন্সটলেশনের সুবিধার জন্য ইন্টারনেট কানেকশন আছে কিনা তা দেখানো হবে। Continue চাপুন।
Status লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!!
  •      লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!!     এবার আসুন খুব গুরুত্বপুর্ণ একটি ব্যপারে – হার্ডডিস্কে কিভাবে লিনাক্স ইন্সটল করবেন। Continue Next ইত্যাদি চাপতে চাপতে ভুলেও এখানে না দেখে Continue চেপে বসবেন না। অবস্থাভেদে এখানে নিচের মত কয়েকটি অপশন দেখাতে পারেন। যেমন-
  1. “Erase disk and install”
  2. “Install alongside other operation system”
  3. “Replace existing OS and install”
  4. “Something else”
প্রথমটি অর্থাৎ ডিস্ক ইরেজ করলে আপনার হার্ডডিস্ক মুছে সবটুকুই লিনাক্সের জন্য ব্যবহৃত হবে। যদি হার্ডডিস্কের কোন ডাটা দরকার না হয় এবং সব মুছে শুধুই লিনাক্স ব্যবহার করতে চান তাহলে এটা আপনার জন্য। তবে এই কাজ না করাই ভালো। এই পদ্ধতি অনুসরণ করে অনেকেই সাধের ডাটা খুইয়েছেন। কাজেই সরে পড়ুন।

যদি আগে থেকেই লিনাক্সের কোন ভার্শন ইন্সটল করা থাকে অথবা তার চেয়ে আপডেটেড ভার্শন ইন্সটল করতে চান তাহলে রিপ্লেস করার অপশটি পছন্দ করতে পারেন।

Install alongside other OS অপশনটি আসবে যদি হার্ডডিস্কে ফাকা জায়গা থাকে। আর সবচেয়ে ভাল পদ্ধতি হল Something else বাছাই করা। সেটা সিলেক্ট করে Continue চাপুন।

Partion লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!!
  •  লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!! এবার আপনার ডিস্কের পার্টিশনগুলো দেখাবে। আপনি যে ড্রাইভে ইন্সটল করতে চান সেটা খুজে বের করুন। আসলে সাইজ দেখেই বুঝতে পারবেন।
Disk+Choice লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!!
এবার একটু প্যাচাল পাড়ি। লিনাক্সে পার্টিশন ম্যানেজমেন্ট উইন্ডোজের চেয়ে একটু ভিন্ন। এখানে হার্ডডিস্ক চিহ্নিত করা হয় sda, sdb, sdc এভাবে এবং ডিস্কের পার্টিশন বাছাই করা হয় 1, 2, 3 এভাবে। অর্থাৎ আপনার ১টা হার্ডডিস্কে ৪টা ড্রাইভ থাকলে সেগুলো sda1, sda2, sda3, sda4 এভাবে দেখাবে। যদি ২টা থাকে তাহলে দ্বিতীয় হার্ডডিস্কের পার্টিশনগুলো দেখাবে sdb1, sdb2, sdb3 এভাবে।

আরো ব্যপার আছে। একটা হার্ডডিস্কে ৪টি প্রাইমারি পার্টিশন এবং যেকোন একটি প্রাইমারি পার্টিশনকে অনেকগুলো লজিকাল পার্টিশনে এক্সটেন্ড করা সম্ভব। কাজেই আপনার পার্টিশনগুলো যদি লজিকাল হয় তাহলে সেগুলো যথাক্রমে sda5, sda6, sda7 এভাবে দেখাবে। অর্থাৎ sda1 – sda4 এই চারটি পার্টিশন সংরক্ষিত থাকবে। যাহোক আপনার যে অংশে লিনাক্স ইন্সটল করতে চান সেটায় মার্ক করে Add বাটনে ক্লিকান।

New+Partition লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!!
  •  লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!!  উপরের মত ছোট্ট একটা উইন্ডো আসবে। এখানে আপনাকে বাছাই করতে হবে পার্টিশনটি প্রাইমারি না লজিকাল হবে। তারপর কতটুকু ডিস্ক স্পেস লিনাক্স পার্টিশনের জন্য বরাদ্দ তা মেগাবাইটে বসাতে হবে। পুরোটা দিতে চাইলে যা আছে তাইই রেখে দিন। এবার দেখুন পার্টিশনটা ফাকা জায়গার শুরু না শেষ অংশে হবে। অর্থাৎ যদি ফাকা জায়গা থেকে যায় সেটা লিনাক্স পার্টিশনের আগে না পরে থাকবে সেটা ঠিক করতে হবে। এখানে Beginning দেওয়াই ভাল। তারপর ফাইল সিস্টেম কেন হবে তা সিলেক্ট করুন। এখানে লিনাক্সের জন্য জার্নালিং ফাইল সিস্টেম EXT ব্যবহার করা হয়। এর চারটি ভার্শন দেখানো হবে। যাদের কম্পিউটারে ইউপিএস নেই তারা ext3 বা ext2 দিবেন এবং যারা ল্যাপটপ ব্যবহার করেন তারা যেকোনটি দিতে পারেন। কেননা ext4 এমন একটি সিস্টেম যা পাওয়ার কমাতে ডাটা বাফারে রেখে কিছু সময় পর পর ডিস্কে রাইট করে। এবার Mount point নির্বাচন করতে হবে। এখানে কিছু জানার আছে।
  •  লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!! লিনাক্সের ফাইল সিস্টেম কতগুলো ফোল্ডার নিয়ে গঠিত যেমন bin, boot, lib, opt, mnt, media, usr, dev, etc, sbin, root, sys, home ইত্যাদি। বিভিন্ন ফোল্ডারে সিস্টেমের বিভিন্ন অংশ থাকে। সুবিধার জন্য আপনি এগুলো আলাদা আলাদা পার্টিশনে রাখতে পারেন। যেমন home ফোল্ডারটি হল ইউজারের নিজস্ব ফোল্ডার যেখানে সকল সেটিংস ও ডাটা সংরক্ষিত থাকে (Windows এ Documents and Settings বা Users এর মত)। আবার libs এ দরকারী সকল সিস্টেম ফাইল ও লাইব্রেরী থাকে (Windows এর system32 এর মত)। আপনি আলাদা আলাদা অংশে এগুলো সেট করলে পরবর্তীতে ডাটা না মুছেই লিনাক্স ইন্সটল করতে পারবেন। বিশেষ করে home অংশটা আলাদা করলে পরে লিনাক্স ইন্সটল করলেও আপনার সেটিংস সহ সকল ডাটা অক্ষত থাকবে। কাজেই Mount point এ যেয়ে আপনি পৃথক পৃথক পার্টিশনে ফোল্ডারগুলো সেট করে দিতে পারেন। তা না চাইলে যেকোন পার্টিশনে শুধু রুট (“/”) হিসেবে মাউন্ট দিলেই সেটার মাঝে সকল ফোল্ডার ইন্সটল হবে। OK চাপলে নিচের মত দেখাবে।
Done লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!!
  •     লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!!    আপনি যদি সোয়াপ অর্থাৎ পেজিং ব্যবহার করতে চান তাহলে কোন একটি ফাকা জায়গায় উপরের মতই Use as অপশনে swap space সিলেক্ট করে দিন। যাদের র‍্যাম কম তারা র‍্যামের সমপরিমাণ জায়গা সোয়াপের জন্য দিবেন। তবে র‍্যাম বেশী থাকলে সোয়াপ নাও দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনি হাইবারনেট ফিচারটি ব্যবহার করতে পারবেননা। জেনে নিন, ইন্সটলের পরেও আপনি সোয়াপ কনফিগার করতে পারেন। পার্টিশন জনিত কাজ শেষ হলে Continue চাপুন।
Warning লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!!
  •    লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!!   এরকম উইন্ডো দেখাতে পারে। আবার কন্টিনিউ করুন। এবার আপনার টাইম জোন বেছে নেওয়ার পালা। ম্যাপ থেকে বাংলাদেশ বা যেখানে আছেন সেখানে ক্লিক করুন।
Location লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!!
  •    লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!!   এবার কিবোর্ড লেআউট বাছাই করার পালা। ইংরেজী কিবোর্ড তো থাকবেই, সাথে আপনি বাংলার জন্য জাতীয় কিংবা প্রভাত লেআউট বেছে নিতে পারেন।
Keyboard লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!!
  •     লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!!   এবার আপনার পরিচয় দেবার পালা। চটপট বক্সে নাম, কম্পিউটারের নাম, সুন্দর একটা ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড বসিয়ে দিন। পাসওয়ার্ডটা একটু মনে রাখবেন কেননা পরে সিস্টেমের কনফিগারের কাজে এটা সবসময় আপনার লাগবে। যদি হোম ফোল্ডার অর্থাৎ যেখানে আপনার নিজের তথ্য, সেটিংস থাকে সেটা পাসওয়ার্ড প্রোটেক্টেড করতে চান তাহলে [o] Encrypt my home folder এ চেক দিন।
Info লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!!
  •      লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!!     এবার Continue চেপে নড়ে চড়ে বসুন। একটা স্লাইডশো দেখানো হবে বিভিন্ন ফিচার নিয়ে। সেটা টেনেটুনে দেখতে থাকুন। পাঁচ-দশ মিনিটেই ইন্সটলেশন হয়ে যাবে। পুরনো পিসিতে দেরী লাগতে পারে। অপেক্ষা করুন।
Slide লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!!
  •    লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!!     ইন্সটলের কাজ হয়ে গেলে রিস্টার্ট করতে বলবে। রিস্টার্ট বাটনে চেপে সিস্টেম রিবুট করুন।
Linux+%255BRunning%255D+ +Oracle+VM+VirtualBox 020 লিনাক্স: ইন্সটলেশন প্রসেস। ছবিসহ সম্পুর্ণ বাংলা টিউটোরিয়াল!!
স্বাগতম! কম্পিউটারে লিনাক্স ইন্সটলের কাজ শেষ। এবার আপনি লিনাক্স ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। পরের পর্বে থাকছে সিস্টেম ইন্সটলের পর দরকারী টুইক ও নানা কাস্টোমাইজেশন নিয়ে টুকিটাকি কথা। সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।
0 comments

অনলাইনে জিডি করবেন যে ভাবে!


 জিডি শব্দটি জেনারেল ডায়েরীর সংক্ষিপ্ত রুপ। প্রতিটি থানায় এবং ফাঁড়িতে একটি ডায়েরীতে ২৪ ঘন্টার খবর রেকর্ড করা হয়। প্রতিদিন সকাল আটটায় ডায়েরী খুলে পরের দিন সকাল আটটায় বন্ধ করা হয়। অর্থাৎ কার্যত এটি কখনই বন্ধ হয় না।
 
এই ডায়েরীতে থানার বিভিন্ন কার্যক্রম  যেমন আসামী কোর্টে চালান দেয়া, এলাকার বিভিন্ন তথ্য, থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আগমন ও প্রস্থানের তথ্য ইত্যাদি লিপিবদ্ধ থাকে।

অনলাইন জিডি
ডায়েরি (জিডি) করতে এখন আর থানায় গিয়ে আবেদনপত্র লিখতে হবে না। ঘরে বসে অনলাইনে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে আপনি নিজেই করতে পারেন সাধারণ ডায়েরি। আপনার দলিল, সার্টিফিকেট, পরিচয়পত্র ইত্যাদি হারানো, চুরি, ছিনতাই সংক্রান্ত তথ্য জানিয়ে বাসায় বসেই নিরাপদে অনলাইনে জিডি করতে পারেন । শুরুতে শুধু ঢাকা মেট্রোপলিটনের সব থানার আওতায় বসবাসকারীরা এ সুযোগ পাচ্ছেন। পাসপোর্ট, ব্যাংকের চেক বই, সার্টিফিকেটসহ কোনো গুরুত্বপূর্ণ দলিল হারিয়ে গেলে অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি করা যাবে। এ ছাড়া বখাটে, মাদকসেবী বা অপরাধীদের আড্ডাস্থল বা অন্য কোনো অবৈধ সমাবেশ সম্পর্কিত অভিযোগ অনলাইনে করার সুযোগ রয়েছে।
যেভাবে জিডি করবেন
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়েবসাইট http://www.dmp.gov.bd/ ঠিকানায় প্রবেশের পর প্রধান পৃষ্ঠার ব্যানারের নিচেই দেখতে পাবেন Citizen Help Request নামের একটি ট্যাব। এই ট্যাবে ক্লিক করলে চলে আসবে আলাদা একটি পাতা। পাতার শুরুতেই অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি নিয়ে কিছু বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। নিচের অংশে রয়েছে তথ্য দেওয়ার তালিকা। এই তালিকা থেকে আপনি যে ধরনের সাধারণ ডায়েরি করতে চান তা নির্বাচন করুন। নির্বাচনের মাধ্যমে পরবর্তী পাতায় আপনি পাবেন ডায়েরি করার ফরম। ফরম পূরণের শুরুতে আপনি যে থানায় ডায়েরিটি করবেন তা নির্বাচন করতে হবে। এরপর আপনার নাম, ঠিকানাসহ সংশ্লিষ্ট তথ্যাবলি পূরণ করে Submit বাটনটি ক্লিক করলেই সংশ্লিষ্ট থানায় পৌঁছে যাবে আপনার তথ্য। স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনি একটি শনাক্তকরণ নম্বর ও থানা থেকে কবে ডায়েরি সংক্রান্ত সত্যায়িত কাগজটি সংগ্রহ করবেন তার সময় জানতে পারবেন। নম্বরটি সংরক্ষণ করুন। কারণ থানা থেকে আপনার সাধারণ ডায়েরির সত্যায়িত কপিটি সংগ্রহ করতে পরে নম্বরটির প্রয়োজন পড়বে।
তথ্য ও পরামর্শ
অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি সংক্রান্ত যেকোনো পরামর্শ ও তথ্যের জন্য bangladesh@police.gov.bd ঠিকানায় মেইল পাঠাতে পারেন। অথবা ফ্যাক্স করতে পারেন ০২-৯৫৫৮৮১৮ নম্বরে


জিডির নমুনা
বরাবর
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
.......... থানা
ঢাকা।
 
বিষয়: এসএসসি সার্টিফিকেট হারানো সংবাদ ডায়েরীভুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন।
 
মহোদয়,
আমি নিম্ন সাক্ষরকারী আপনার থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে জানাচ্ছি যে, আমার এসএসসি পরীক্ষার সার্টিফিকেট আজ সকাল আনুমানিক ১১ টার সময় ঢাকা কলেজের পাশের রাস্তার একটি ফটোকপি করার দোকান থেকে হারিয়ে গেছে।
 
এমতাবস্থায় হারানোর বিষয়টি ডায়েরীভুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
 
সার্টিফিকেটের বিবরণ:
পরীক্ষার নাম...শিক্ষাবর্ষ...রেজিষ্ট্রেশন নং... রোল নং...
 
দাখিলকারী,
....
ঠিকানা...
ফোন...
1 comments

জেনে নিনপরিচয়পত্রে ভুল থাকলে বা হারিয়ে গেলে কি করবেন ?জেনে নিন

 

জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নাম, পিতা, মাতা, স্বামী, স্ত্রী ও অভিভাবকের নাম, জন্মতারিখ, রক্তের গ্রুপ এবং ঠিকানা সংশোধন কিংবা বদল করতে হতে পারে। এ জন্য প্রার্থীকে সাদা কাগজে ‘ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানে সহায়তা প্রদান প্রকল্প’-এর পরিচালকের কাছে আবেদন করতে হবে। এই আবেদন আগারগাঁওয়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবনের সপ্তম তলায় প্রকল্প কার্যালয়ে পাওয়া ছক বা ফরমেও করা যায়। ফরম পূরণ করে প্রকল্প কার্যালয়ের নির্দিষ্ট কাউন্টারে জমা দেওয়ার পর সেখান থেকে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র (প্রাপ্তি নম্বরসংবলিত) দেওয়া হয়। এতে সংশোধিত জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার তারিখ উল্লেখ থাকবে। এই তারিখের সাত দিনের মধ্যে কাউন্টার থেকে সংশোধিত পরিচয়পত্র নিতে হবে।নাম সংশোধনঃ কেউ পরিচয়পত্রে থাকা নিজের নাম, পিতা, স্বামী কিংবা মাতার নাম সংশোধন করতে চাইলে তাকে আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে এসএসসি বা সমমান সনদ, নাগরিকত্ব সনদ, জন্মনিবন্ধন সনদ, চাকরির প্রমাণপত্র, পাসপোর্ট, নিকাহনামা এবং পিতা, স্বামী কিংবা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি। আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত এসব নথি অবশ্যই সত্যায়িত হতে হবে। এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করা নথির যার যেটি আছে, শুধু সেটি দিলেই চলবে। যেমন, যার শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির কম, তাকে এসএসসি বা সমমানের সনদের ফটোকপি জমা দিতে হবে না। আবার কেউ যদি চাকরি না করেন, তাকে চাকরির প্রমাণপত্র দিতে হবে না। আবার পাসপোর্ট না থাকলে তা দেওয়ার দরকার নেই।নাম পরিবর্তনঃ জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নাম বদল করতে হলে আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে এসএসসি বা সমমানের সনদের সত্যায়িত ফটোকপি (শিক্ষাগত যোগ্যতা এর নিচে হলে দেওয়ার দরকার নেই), বিবাহিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্ত্রী বা স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি, ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে সম্পাদিত এফিডেভিট এবং জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত নাম পরিবর্তনসংক্রান্ত বিজ্ঞাপনের কপি। নাম পরিবর্তনের জন্য প্রার্থীকে শুনানির দিন প্রকল্পের কার্যালয়ে কাগজপত্রের মূল কপিসহ হাজির হতে হবে।স্বামীর নাম সংযোজন বা বাদ দেওয়াঃ বিয়ের পর কেউ জাতীয় পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম যুক্ত করতে চাইলে তাকে কাবিননামা ও স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্র আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। আর বিবাহবিচ্ছেদের কারণে স্বামীর নাম বাদ দিতে চাইলে আবেদনকারীকে তালাকনামার সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।পিতা বা মাতার নাম পরিবর্তনঃ পিতা বা মাতার নাম পরিবর্তন করতে হলে আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে এসএসসি বা এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার সনদ অথবা রেজিস্ট্রেশন কার্ড। পিতা বা মাতার পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি। পিতা বা মাতা বা উভয়ে মৃত হলে দিতে হবে ভাই বা বোনের পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি। পিতা-মাতার নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার নিতে পারেন।
জন্মতারিখ সংশোধনঃ যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা সমমানের, তাদের আবেদনপত্রের সঙ্গে এসএসসি বা সমমানের সনদের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে। বয়সের পার্থক্য অস্বাভাবিক না হলে প্রাপ্তি স্বীকারপত্রে উল্লেখ করা তারিখে সংশোধিত পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়। অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সনদের মূল কপি প্রদর্শন কিংবা ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে হতে পারে। যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা সমমানের কম, তাদের জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার আগের তারিখে পাওয়া সার্ভিস বুক বা এমপিওর কপি, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জন্ম সদন, নিকাহনামা, পাসপোর্টের কপি প্রভৃতি। এ ক্ষেত্রে প্রকল্প কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা প্রকল্প পরিচালক আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার নিয়ে থাকেন। এ ছাড়া দরকার হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়।ঠিকানা সংশোধনঃ জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা বর্তমান ঠিকানা ও ভোটার এলাকা বদল করার সুযোগ আছে। তবে সারা বছর সেই সুযোগ মেলে না। এটা শুধু ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সময় করা যাবে। বর্তমানে হালনাগাদ করার কাজটি করা হয় শুধু জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে। সারা বছর ভোটার এলাকা বদলের সুযোগ থাকে না কেন, জানতে চাইলে প্রকল্পের কমিউনিকেশন অফিসার দেবাশীষ কুণ্ডু বলেন, ‘আমাদের দেশে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভিন্ন ভিন্ন সময়ে হয়। দেখা যায়, একই বছর একাধিক নির্বাচন হয়। একই বছরে কেউ যাতে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট দিতে না পারেন, তাই সারা বছর ভোটার এলাকা বদলের সুযোগ দেওয়া হয় না।’ হালনাগাদ করার সময় ভোটার এলাকা বদল করতে হলে নতুন ঠিকানার উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিস থেকে দেওয়া ফরম-১৩ অথবা ফরম-১৪ পূরণ করে উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে। তবে ঠিকানা পরিবর্তন না করে সংশোধন (বানান, বাড়ির নম্বর, সড়ক নম্বর ভুল থাকলে) করার সুযোগ ঢাকার প্রকল্প কার্যালয়ে রয়েছে। এ ছাড়া স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন বা এর কোনো তথ্য সংশোধনেরও সুযোগ আছে। ঠিকানার ছোটখাটো ভুল সংশোধন বা স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তনের সুযোগ সারা বছরই থাকে। এ জন্য আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রকল্প কার্যালয়ের নির্দিষ্ট কাউন্টারে জমা দিতে হবে পরিবারের কোনো সদস্যের পরিচয়পত্রের কপি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, টেলিফোন বিলের যেকোনো একটির কপি বা কর দেওয়ার কপি। আরও জমা দিতে হবে চেয়ারম্যান বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র। স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ওই ঠিকানায় নিজের নামে বা পিতা বা মাতার নামে থাকা জমি বা ফ্ল্যাটের দলিলের সত্যায়িত ফটোকপিও জমা দিতে হবে।রক্তের গ্রুপ সংশোধনঃ রক্তের গ্রুপ সংশোধন করতে হলে মেডিকেল প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
বিবিধ সংশোধনঃ জাতীয় পরিচয়পত্রে কোনো নামের আগে পদবি, উপাধি, খেতাব ইত্যাদি সংযুক্ত করা যাবে না। পিতা বা স্বামী বা মাতাকে মৃত উল্লেখ করতে চাইলে মৃত্যুর সনদ দাখিল করতে হবে। জীবিত পিতা বা স্বামী বা মাতাকে ভুলক্রমে মৃত হিসেবে উল্লেখ করার কারণে পরিচয়পত্র সংশোধন করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়পত্রের কপি দাখিল করতে হবে।

হালনাগাদ কর্মসূচির পরিচয়পত্র সংশোধনঃ ২০০৯ সালে হালনাগাদ কর্মসূচির সময় যাদের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছে, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রে কোনো ভুল থাকলে বা হারিয়ে গেলে তাদের ২০১০ সালের ডিসেম্বরের পর প্রকল্প কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।

পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলেঃ পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট থানায় ভোটার নম্বর বা আইডি নম্বর উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে। এরপর জিডির মূল কপিসহ প্রকল্প কার্যালয় থেকে নেওয়া ছকের আবেদনপত্র নির্দিষ্ট কাউন্টারে জমা দিয়ে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র নিতে হবে। প্রাপ্তি স্বীকারপত্রে উল্লেখ করা তারিখে ডুপ্লিকেট পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়।

যাঁরা এখনো পরিচয়পত্র ওঠাননিঃ ঢাকা সিটি করপোরেশনের যেসব বাসিন্দা (ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, শ্যামপুর থানা ছাড়া) ২০০৭-০৮ সালে পরিচয়পত্রের জন্য সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন, কিন্তু সেটি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে গিয়ে আর আনেননি, তাঁরা প্রকল্প কার্যালয়ে গিয়ে মূল প্রাপ্তি রসিদ জমা দিয়ে সেই পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। ডিসিসির বাইরে ঢাকা জেলার অন্যান্য উপজেলা বা থানার বাসিন্দা কিংবা দেশের অন্য কোনো জেলার বাসিন্দারা পরিচয়পত্র নির্দিষ্ট সময়ে না উঠিয়ে থাকলে, তাঁদের প্রাপ্তি রসিদ সংশ্লিষ্ট উপজেলা, থানা বা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মন্তব্যসহ প্রাপ্তি রসিদ জমা দিয়ে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। তাঁদের মূল প্রাপ্তি রসিদ প্রকল্প কার্যালয়ের নির্দিষ্ট কাউন্টারে জমা দিয়ে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র গ্রহণ করতে হবে। প্রাপ্তি স্বীকারপত্রে উল্লেখ করা তারিখে তাঁদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।

অভিবাসীরা যেভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র পাবেনঃ অভিবাসী বাংলাদেশিদের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার সুযোগ আছে। এ জন্য তাঁদের অবশ্যই দেশে আসতে হবে। তাঁদের থাকতে হবে পাসপোর্ট। আর তাতে বাংলাদেশে আসার সিল (অ্যারাইভাল সিল) থাকতে হবে। কারও যদি পাসপোর্ট না থাকে, তবে তাঁকে এমন কোনো কাগজ দেখাতে হবে, যেটা প্রমাণ করে যে তিনি বিদেশে ছিলেন। পাসপোর্ট বা সেই প্রমাণপত্র নিয়ে তাঁকে যেতে হবে তাঁর থানা বা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে। সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া এবং ভোটার হওয়ার আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। সেখানে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আবেদনকারীকে ফরম ও আনুষঙ্গিক কাগজপত্র নিয়ে আসতে হবে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে। সেই দপ্তর থেকে সব কাগজপত্র ডাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়া হবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অধীনে থাকা ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানে সহায়তা প্রদান প্রকল্পের দপ্তরে। তবে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে কাগজপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষ করে আবেদনকারী সেগুলো হাতে হাতে নিয়ে আসতে পারেন প্রকল্পের কার্যালয়ে। এখানে আবেদনকারীর ছবি তোলা হবে, নেওয়া হবে হাতের ছাপ ও চোখের (আইরিশ) স্ক্যান। এসব কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর আবেদনকারীকে প্রাপ্তি রসিদ দেওয়া হবে। তাতে আবেদনকারীকে ১৫ দিন পর আগারগাঁওয়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবনের সপ্তম তলায় প্রকল্পের দপ্তর থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হবে। তখন অবশ্যই প্রাপ্তি রসিদ আবেদনকারীর সঙ্গে থাকতে হবে।

নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে হলেঃ বাংলাদেশে কারও বয়স ১৮ বছর হলেই কেবল তিনি ভোটার তালিকায় নাম ওঠাতে পারেন। সে ক্ষেত্রে যাঁদের বয়স এখন ১৮ হচ্ছে, তাঁরা কি ভোটার হতে পারবেন? এ বিষয়ে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানে সহায়তা প্রদান প্রকল্পের কমিউনিকেশন অফিসার দেবাশীষ কুণ্ডু জানান, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের ভোটার তালিকায় নাম ওঠার কথা। কিন্তু এখন শুধু জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় নাম ওঠানোর সুযোগ রাখা হচ্ছে। সারা বছর ভোটার তালিকায় নাম ওঠানোর সুযোগ নেই কেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন শুধু একটি কার্যালয়ে ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি এবং এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। নতুন কারও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করতে গেলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ওঠাতে হয়। এটি অনেক বড় একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু পর্যাপ্ত জনবল ও সহায়ক সরঞ্জামের অভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে জটিলতায় পড়তে হয়। এই জটিলতা এড়াতে আপাতত সারা বছর ভোটার তালিকায় নাম ওঠানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। দেশের প্রতিটি উপজেলায় সার্ভার স্টেশন তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। এসব স্টেশনে ভোটার তালিকা তৈরি ও বিতরণের কাজ করা হবে। এগুলোয় কার্যক্রম শুরু হলে যখন যাঁর বয়স ১৮ বছর হবে, তখন তিনি ভোটার তালিকায় নাম ওঠাতে পারবেন। এখন ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া মাত্রই জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সুযোগ থাকছে তাঁদেরই, যাঁদের চিকিৎসা, পড়াশোনা বা কাজের জন্য বিদেশে যেতে হবে। এ জাতীয় কোনো প্রয়োজনীয়তার প্রমাণ দেখাতে হবে।

যোগাযোগঃ ভোটার তালিকাসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে হলে নগরবাসীকে যোগাযোগ করতে হবে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানে সহায়তা প্রদান প্রকল্পের আগারগাঁওয়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবনের সপ্তম তলার কার্যালয়ে।

0 comments

ল্যাপটপের ব্যাটারির চার্জের স্থায়িত্ব বাড়াবার ১০টা উপায়।

ল্যাপটপ ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটা কমন সমস্যা হল ব্যাটারির চার্জের সমস্যা। আমরা সবাই চাই আমাদের ল্যাপটপের ব্যাটারি একটু বেশিদিন চলুক। 


আজকে আমার এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা সামান্য কিছু কাজ করে বাড়িয়ে নিতে পাড়বেন আপনার প্রিয় ল্যাপটপের পারফর্মেন্স আর সেটার ব্যাটারিকে করতে পাড়বেন দীর্ঘস্থায়ী।


ল্যাপটপে কাজ করার সময় নিচে বর্ণিত বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখলে দেখতে পারবেন, আপনার ল্যাপটপের পারফর্মেন্স বৃদ্ধি পাবে এবং সেই সাথে ব্যাটারি হবে দীর্ঘ স্থায়ী -

১. উইন্ডোজ Aero Effect অফ করে দিন (বেসিক থিমের সাহায্যে) এবং ব্যাটারিতে চলাকালীন হার্ডডিস্ক ও সিপিইউ এর মেইনটেনেন্স-এর কোন কাজ করবেন না।

২. ব্যাটারী দিয়ে ল্যাপটপ চালানোর প্রয়োজন না হলেও ২/৩ সপ্তাহ অন্তর অন্তর ব্যাটারীথেকে চালাতে হবে, নতুবা ব্যাটারী আয়ু কমে যাবে।

৩. ব্যাটারীতে ল্যাপটপ চালানোর সময় স্ক্রিনের ব্রাইটনেস কমিয়ে দিন।

৪. দরকারি ছাড়া অন্য উইন্ডোগুলো মিনিমাইজ করে রাখুন। 

৫. ব্লু-টুথ ও ওয়াই-ফাই কানেকশন বন্ধ রাখুন।

৬. হার্ডডিস্ক থেকে মুভি-গান প্লে করুন, কারন সিডি/ডিভিডি রম অনেক বেশি পাওয়ার নেয়। 

৭. এয়ার ভেন্টের পথ খোলা রাখুন, সহজে বাতাস চলাচল করেএমন ভাবে ল্যাপটপ পজিশনিং করুন (ল্যাপটপের নীচে বই জাতীও কিছু দিয়ে), সরাসরি সূর্যের আলোতে রাখবেন না। 

৮. সাট ডাউনের পরিবর্তে হাইবারনেট অপশন ইউজ করুন।

 ৯. মাঝে মাঝে ব্যাটারীর কানেক্টর লাইন পরিস্কার করুন। 

১০. অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রামগুলো বন্ধ করুন। টাস্কবারে রাইট ক্লিক করে টাস্ক ম্যানেজার ওপেন করুন এবং অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম গুলোকে সিলেক্ট করে End Process করে বন্ধ করে দিন।
0 comments

গুরুত্বপূর্ন স্টুডেন্ট ভিসার প্রশ্ন:US Embassy Question for Student VISA F-1

common sample questions for F-1 Student Visa Interview:
General Sample Questions -
   

  1. Why did you choose the US as opposed to studying at home or in another country?
  2. Have you traveled to the US before?
  3. Why do you wish to learn English in the US?
  4. What do you know about the US?
  5. What do you expect to do when you return to your home country?
  6. Do you plan on working in the US?
  7. What proof can you provide that you will come back?
  8. Does anybody from your family stay or study abroad?
  9. How many years do you intend to stay in US?
  10. Do you know anyone in the town your English language program is located in?
  11. What will you do if your visa is rejected?
  12. Will you come home during summer?
  13. Why have you chosen this English language program?
  14. Do you have any family members in the US?
  15. What are your hobbies?
  16. Where does your family reside?
  17. Do you have any brothers and sisters – where do they live?
  18. Where do your brothers and sisters study?
Financial Sample Questions -
  1. How are you going to pay for your program and living expenses?
  2. Did you get any scholarship?
  3. Do you have a sponsor, if so, who?
  4. What do your parents do? What is their income?
  5. What is the cost of your English language program?
  6. Do you have any current loans?
Academic/Career Sample Questions -
  1. Where did you hear about this school?
  2. What schools did you apply to?
  3. Why are your exam scores low?
  4. What do you know about the education system in the US?
  5. Why are you applying for an English language program only?
  6. Why do you want to study in the US?
  7. Do you plan to study in a university after your English language program?
  8. What do you want to study?
  9. What are your career goals?
  10. What is your current grade point average/percentage?
  11. Tell me more about the English language program.
  12. Why are you leaving your current job?

1 comments

টিকফা কী? চুক্তিটি কার জন্য? চুক্তিতে কী আছে? চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে সমস্যা কী? বিস্তারিত জানুন


টিকফা কী?
টিকফা শব্দটি নতুন। আগে এর নাম ছিল টিফা।‘টিফা’ চুক্তি হলো Trade and Investment Framework Agreements বা সংক্ষেপে TIFA, যেটিকে বাংলায় অনুবাদ করলে হয় — ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত কাঠামোগত সমঝোতা’ চুক্তি। ‘টিফা’ চুক্তি নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে দশক কালেরও আগে থেকে। এই চুক্তির খসড়া প্রণয়নের কাজ শুরু হয় ২০০১ সালে। ১৩টি ধারা ও ৯টি প্রস্তাবনা সম্বলিত চুক্তিটির প্রথম খসড়া রচিত হয় ২০০২ সালে। পরে ২০০৪ সালে এবং তারও পরে আবার ২০০৫ সালে খসড়াটিকে সংশোধিত রূপ দেয়া হয়। দেশের বামপন্থি শক্তিসহ অন্যান্য নানা মহলের তীব্র প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি স্বাক্ষর করা এখনো সম্ভব হয়নি। চুক্তির খসড়া প্রণয়নের পর সে সম্পর্কে নানা মহল থেকে উত্থাপিত সমালোচনাগুলো সামাল দেয়ার প্রয়াসের অংশ হিসেবে এর নামকরণের সাথে Co-operation বা সহযোগিতা শব্দটি যোগ করে এটিকে এখন ‘টিকফা’ তথা TICFA বা Trade and Investment Co-operamework Agreement (‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সংক্রান্ত কাঠামোগত সমঝোতা’ চুক্তি) হিসাবে আখ্যায়িত করার হচ্ছে।
চুক্তিটি কার জন্য?
চুক্তিটি আমেরিকার সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের। এই চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্র করেছে অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গেও। চুক্তিটির ধারা উপধারা ও আমেরিকার তৈরি। আমেরিকা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে নাছোড়বান্দা এবং তারা হাল ছেড়ে না দিয়ে বছরের পর বছর ধরে এজন্য সে বাংলাদেশের ওপর ক্রমাগত চাপ দিয়ে চলেছে। এর মাঝে এদেশে ও আমেরিকায় কয়েক দফা সরকার বদল হয়েছে। কিন্তু ‘টিফা’ চুক্তির বিষয়টি সব আমলেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা হয়ে থেকেছে। তারা এমনও বলেছে যে, ‘টিফা’ চুক্তি স্বাক্ষর না করলে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতার ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পরবে। যেহেতু বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রাধান্য ও আধিপত্য প্রশ্নাতীত এবং এই অসামঞ্জস্য পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাই ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগের’ স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে করা চুক্তিটির দ্বারা প্রধানত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণের একতরফা সুবিধা প্রাপ্তির ব্যবস্থা করা হবে এই সমালোচনা নিরসনের জন্য ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগ’-এর সাথে ‘সহযোগিতা’ শব্দ যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু চুক্তিতে যে সব প্রস্তাবনা ও ধারা রয়েছে সেগুলোর জন্য চুক্তিটি অসম ও মার্কিন স্বার্থবাহী।
টিকফা চুক্তিতে কী আছে?
‘টিকফা’ চুক্তিতে কি কি ধারা রয়েছে তা দেশবাসী জানে না। এই চুক্তি নিয়ে চরম গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে। ২০০৫ সালে টিফার চুক্তি সংক্রান্ত কিছু তথ্য ফাস হয়ে যায়, যেটাতে দেখা যায় অন্যান্য দেশে যে সমস্ত টিফা চুক্তি হয়েছে তার সঙ্গে বাংলাদেশের ধারা উপধারা গুলো মিলে যায়। এই আলোচনা সেই ফাস হওয়া ড্রাফটের উপর করা হয়েছে। যদিও সেই ড্রাফ্ট পরিবর্তিত হয়ে থাকতে পারে তবে মুল ভাবনা এই আলোচনার বাইরে যাবেনা বলেই মনে হচ্ছে। এই চুক্তির খসড়ায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশের বন্ধন সুদৃঢ় করার উল্লেখ থাকলেও চুক্তির বিভিন্ন প্রস্তাবনায় এবং অনুচ্ছেদে বাজার উন্মুক্তকরণ এবং সেবা খাতের ঢালাও বেসরকারিকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক খাতসমূহে বিশেষ করে সেবা খাতগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক কোম্পানির আধিপত্য প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। চুক্তির প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে উভয় রাষ্ট্রই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য উদারনৈতিক নীতি গ্রহণ করবে। বেসরকারি খাতের বিকাশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং উভয় দেশের উচ্চ পর্যায়ের সরকারী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত “ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশন” প্রাইভেট সেক্টরের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় কৌশল ও পরামর্শ সরবরাহ করবে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু সার্ভিস সেক্টরের কথা উল্লেখ রয়েছে, ‘পণ্য’ উৎপাদনের বিষয়টি সংযুক্ত রাখা হয়নি। চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যে বিনিয়োগ করবে, তা শুধু সেবা খাতেই। তারা কোনো পণ্য এ দেশে উৎপাদন করবে না। চুক্তির এসব ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক কোম্পানির বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য দেশের বাজার উন্মুক্ত করে দিবে এবং বিদ্যমান শুল্ক এবং অশুল্ক বাধাসমুহ দূর করতে বাধ্য থাকবে। বাংলাদেশকে দেশীয় শিল্পের/কোম্পানির প্রতি সুবিধা প্রদানকারী বাণিজ্য সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ সংরক্ষন নীতি প্রত্যাহার করতে হবে। টিকফা চুক্তিতে বলাই আছে বাংলাদেশ ১৯৮৬ সালে স্বাক্ষরিত “দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি” অনুযায়ী মার্কিন বিনিয়োগকারীদের অর্জিত মুনাফা বা পুঁজির উপর কোন কর আরোপ করতে পারবে না এবং বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেয়া হলে তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই চুক্তির মাধ্যমে বিনিয়োগের বিশেষ সুরক্ষাসহ মার্কিন কোম্পানিগুলোকে সেবাখাতে বাণিজ্যের জন্য বিশেষ সুযোগ সুবিধা দিয়ে দেশের জ্বালানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, বন্দর, টেলিযোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন ইত্যাদি সেক্টরকে মার্কিন পুঁজিপতিদের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। চুক্তির প্রস্তাবনা অনুযায়ী বাংলাদেশকে দোহা ডেভেলপমেন্ট এজেন্ডা অনুসারে কৃষিতে ভর্তুকি হ্রাসকরণ এবং মুক্তবাজার অর্থনীতি গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া টিকফা চুক্তির অন্যতম দিক হচ্ছে মেধাসত্ব আইনের কঠোর বাস্তবায়ন।
চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে সমস্যা কী?
চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে দেশের সেবাখাতসমূহ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হয়ে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানির দখলে চলে যাবে। এতে করে দেশীয় কোম্পানিগুলোর স্বার্থও বিঘ্নিত হবে। অবাধ মুনাফা অর্জনের জন্য বিদেশি কোম্পানিগুলো সেবা যেমন টেলিযোগাযোগ, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, চিকিৎসা, শিক্ষা, বন্দর প্রভৃতি ও পণ্যের দাম বহুগুনে বৃদ্ধি করবে। সেবাখাতে বিদেশি প্রাইভেট কোম্পানিগুলোর অবাধ বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ প্রদান করলে বাংলাদেশ তার কল্যাণমূলক রাষ্ট্রনীতির আওতায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের দরিদ্র ও সাধারণ মানুষকে কম মূল্যে সেবা দানের যেসব কর্মসূচী নিয়ে থাকে তা সঙ্কুচিত হবে অথবা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনধারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজে সুকৌশলে বাণিজ্য সংরক্ষন নীতি গ্রহণ করে অনুন্নত দেশকে বাণিজ্য সুবিধা প্রদান থেকে বিরত থাকছে। দোহা এজেন্ডা অনুযায়ী বাংলাদেশ কৃষিতে ৫% এর বেশি ভর্তুকি দিতে পারছে না, অথচ যুক্তরাষ্ট্র নিজেই কৃষিতে ১৯% এর বেশি ভর্তুকি দিয়ে তাদের কৃষি ব্যবস্থাকে সুরক্ষা দিচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের কৃষিজ পণ্যের দাম ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র নিজে কিন্তু বাণিজ্য সংরক্ষন নীতি গ্রহণ করছে অথচ আমাদের মত অনুন্নত দেশগুলোকে বাণিজ্য উদারনীতি গ্রহণে নানা চুক্তির মাধ্যমে বাধ্য করছে।
মেধাস্বত্ব আইনের কঠোর বাস্তবায়ন হলে তা উন্নত দেশগুলোর মালিকানাধীন বহুজাতিক কোম্পানির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেই কাজ করবে যাতে দরিদ্র দেশগুলোর কাছ থেকে অবাধে মাত্রাতিরিক্ত মুনাফা লুণ্ঠনের আইনি বৈধতা পাওয়া যায়। উন্নত প্রযুক্তি এবং উৎপাদন পদ্ধতির অধিকারী হবার পর তারা এই জ্ঞানকে কুক্ষিগত করে রাখতে চায়। এর মাধ্যমে তারা চায় যেন অবশিষ্ট বিশ্ব প্রযুক্তি ও উৎপাদনের জন্য তাদের উপর নির্ভরশীল থাকে এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজারে পরিণত হয়। টিফা চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই মেধাস্বত্ব আইন মানতে বাধ্য করছে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে। টিকফা চুক্তির ফলে বাংলাদেশকে ২০১৬ সালের আগেই মেধাস্বত্ব আইন মেনে চলতে হবে। চুক্তির প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে বাণিজ্য সম্পর্কিত মেধাস্বত্ব অধিকার (TRIPS) এবং অন্যান্য প্রচলিত মেধাস্বত্ব আইনের যথাযথ এবং কার্যকরী রক্ষণাবেক্ষণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে । দোহা ঘোষণা ২০০০ অনুযায়ী বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আওতায় বাণিজ্যবিষয়ক মেধাসম্পদ স্বত্ব চুক্তি অনুসারে স্বল্পোন্নত সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় এবং ২০১৬ পর্যন্ত ওষুধের ক্ষেত্রে মেধাস্বত্ববিষয়ক বিধিনিষেধ থেকে ছাড় পেয়েছে এবং এই সুবিধা গ্রহণ করে বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো বিভিন্ন পেটেন্ট করা ওষুধ উৎপাদন এবং রফতানি করতে পারছে। কিন্তু টিকফা এ সে ধরনের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। এর ফলে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প, কম্পিউটার সফটওয়্যার সহ গোটা তথ্যপ্রযুক্তি খাত আমেরিকার কোম্পানিগুলোর পেটেন্ট, কপিরাইট, ট্রেডমার্ক ইত্যাদির লাইসেন্স খরচ বহন করতে গিয়ে বিভিন্ন পণ্য এবং প্রযুক্তির দাম অভাবনীয়ভাবে বেড়ে যাবে। মেধাস্বত্ত্ব আইন কার্যকর হলে বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো অনেক ওষুধ তৈরি করতে পারবে না, আমাদেরকে কয়েকগুন বেশি দামে বিদেশি কোম্পানির পেটেন্ট করা ওষুধ খেতে হবে । বাংলাদেশ ওষুধ শিল্পে রপ্তানি সম্ভাবনা হারাবে। দরিদ্ররা ওষুধ কিনতে গিয়ে হিমশিম খাবে। বাংলাদেশের ওষুধশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে কেননা দেশীয় ওষুধ কোম্পানিগুলো নিজ দেশেই তাদের ওষুধ বিক্রি করতে গিয়ে বিদেশি কোম্পানির সাথে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে। ফলে অনেক মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প ধংস হয়ে যাবে। আবিষ্কারক কোম্পানি সুদীর্ঘ ২০ বছর ধরে নিজের ইচ্ছামতো দামে ওষুধটির একচেটিয়া ব্যবসা করে অবাধে মুনাফা লুট করবে।
‘টিকফা’ চুক্তির খসড়ায় পণ্য ও পুঁজির চলাচলকে অবাধ করার কথা এবং সেই সূত্রে মুনাফার শর্তহীন স্থানাস্তরের গ্যারান্টির কথা বলা হলেও শ্রম শক্তির অবাধ যাতায়াতের সুযোগের কথা কিছুই বলা হয়নি। অথচ শ্রম শক্তিই হলো আমাদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও মূল্যবান সম্পদ যার রপ্তানির ক্ষেত্রে আমাদের রয়েছে বিপুল আপেক্ষিক সুবিধা। কিন্তু সে ক্ষেত্রে ‘খোলাবাজার’ নীতিটি যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োগ করতে রাজি নয়। তারা তা প্রয়োগ করতে প্রস্তুত কেবল পুঁজি এবং পণ্য-সেবা পণ্যের ক্ষেত্রে, যে ক্ষেত্রে তার রয়েছে বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি আপেক্ষিক সুবিধা। অন্যদিকে, টিকফাতে ‘শুল্ক বহির্ভূত বাধা’ দূর করার শর্ত চাপানো হলেও ‘শুল্ক বাধা’ দূর করার কথা বেমালুম এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রপ্তানিকৃত তৈরি পোশাক শিল্পের পণ্যের ক্ষেত্রে, গড় আন্তর্জাতিক শুল্ক যেখানে ১২%, যুক্তরাষ্ট্রের তা ১৯%।
পেটেন্ট আইন মানতে হলে সমস্যা কী?
পেটেন্ট কোন প্রতিষ্ঠানকে মেধাসত্ত্ব দিয়ে দেয়। ফলে সে সেই মেধাসত্ত্বের ভিত্তিতে সেই পেটেন্টের সাথে সম্পর্কিত যে কোন বাণিজ্যে সে রয়্যালটি দাবী করতে পারে। যেমন নিমের পেটেন্ট করা আছে আমেরিকার তাই নিম গাছ থেকে উৎপাদিত যে কোন পণ্যে সে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের কাছে রয়্যালটি দাবী করতে পারবে। বাংলাদেশ, ভারত, ব্রাজিল সহ বিভিন্ন দেশের নিজস্ব জীববৈচিত্রের অনেক জীব-অণুজীব এবং উদ্ভিদ প্রজাতি এখন বহুজাতিক কোম্পানির পেটেন্টের দখলে। ভারত উপমহাদেশের শতাধিক গাছগাছড়া যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট অফিসে রেজিস্ট্রেশনের অপেক্ষায় রয়েছে। পেটেন্ট আইন বাস্তবায়ন আমাদের দেশের জীববৈচিত্র্য এবং কৃষিতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। পেটেন্ট এর মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন এখন আর শুধু সামরিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয় বরং ফল ফসল এবং গাছ গাছড়ার উপরও বিস্তৃত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট আইনে বলা আছে, “কোন কিছুর পেটেন্টের বেলায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অলিখিত উৎসের অনুসন্ধানের কোন বাধ্যবাধকতা নেই”। এর মানে হচ্ছে হাজার হাজার বছর ধরে উন্নয়নশীল দেশের প্রচলিত উৎপাদন প্রনালী, জীববৈচিত্র্য, কৃষকদের নিজস্ব শস্যবীজ ইত্যাদি শুধুমাত্র প্রযুক্তি এবং অর্থের জোরে পেটেন্ট করে নিতে পারবে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। এক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো তাদের উন্নত জেনেটিক টেকনোলজির মাধ্যমে ডি এন এ ফিংগার প্রিন্ট নির্ণয় করে অন্য দেশের জীববৈচিত্র্য এবং কৃষিজ সম্পদকে নিজের বলে পেটেন্ট করিয়ে নেবে। কৃষিতে পেটেন্ট বাস্তবায়ন হলে কৃষকদের শস্য বীজ উৎপাদন, সংরক্ষন, পুনরুৎপাদন এবং রক্ষণাবেক্ষণের অধিকার কেড়ে নেয়া হবে। মেধাস্বত্ব আইন অনুযায়ী রয়্যালটি পাবে আমেরিকার বহুজাতিক কোম্পানিগুলো আর ধ্বংস হবে দেশী প্রজাতি, পরিবেশ এবং কৃষি উৎপাদন কাঠামো। বীজ এবং কৃষি পণ্যের দাম অনেকগুন বেড়ে যাবে বলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। তৈরি পোশাক শিল্পকেও ব্র্যান্ড নামে ব্যবহূত এদেশের তৈরি এ্যাকসেসরিজের জন্য সংশ্লিষ্ট মার্কিন কোম্পানিকে রয়্যালটি দিতে হবে। বাসমতি চাল, চিরতার রস, নিমের দাঁতন ইত্যাদি হেন বস্তু নেই যা আগেভাগেই মার্কিনীসহ বিদেশি কোম্পানিরা পেটেন্ট করে রাখেনি। মেধাস্বত্ব অধিকারের ধারা প্রয়োগ করে তারা এসবকিছুর জন্য রয়্যালটি প্রদানে বাংলাদেশকে ‘টিকফা’ চুক্তি মাধ্যমে বাধ্য করতে চায়।
টিকফাতে শ্রমিকবান্ধব ধারাও কী আছে?
মোটেও না। টিকফার প্রস্তাবনায় মানবাধিকার, শ্রমের মান এবং শ্রমজীবীদের অধিকার ও পরিবেশগত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হলেও তার লক্ষ্য শ্রমজীবীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা নয় বরং এগুলোকে নন- ট্যারিফ (অশুল্ক) বাধা হিসেবে ব্যাবহার করে যুক্তরাষ্ট্র তার বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের রফতানি ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। মানবাধিকার, শ্রম পরিবেশের মান ইত্যাদি বিষয়কে অশুল্ক বাধা হিসাবে চিহ্নিত করে মার্কিনীরা ‘টিকফা’ চুক্তি দ্বারা বাংলাদেশকে উত্তরণ অসাধ্য প্রতিকূলতায় আটকে ফেলার ফন্দি করেছে। কয়েক শতাব্দী ধরে তারা আমাদের মতো দেশে ঔপনিবেশিক শাসন চালিয়ে, নিজ নিজ দেশে নির্মম ও অমানবিক শ্রম-শোষণ চালিয়ে, শ্রম পরিবেশের ক্ষেত্রে দাস সুলভ মান বজায় রেখে এখন উন্নত ধনী দেশে পরিণত হয়েছে। এখন আমরা উন্নয়নের পথ গ্রহণ করা মাত্রই সমানে সমানে প্রতিযোগিতায় নামার কথা বলে আমাদের ওপরে তাদের মতো সমান মাত্রার শর্তাবলী চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে। এ যেন, হাত-পা খোলা মোটা তাজা মানুষ কর্তৃক পেছনে হাত বাঁধা অনাহারী মানুষকে সমানে সমানে কুস্তি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো!
চুক্তির জন্য কেন এতো গোপনীয়তা?
বাংলাদেশের সংবিধানে আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, ‘বিদেশের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হইবে, এবং রাষ্ট্রপতি তাহা সংসদে পেশ করিবার ব্যবস্থা করিবেন; তবে শর্ত থাকে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সহিত সংশ্লিষ্ট অনুরূপ কোনো চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হইবে।’ যেহেতু টিকফা কোন নিরাপত্তা বিষয়ক চুক্তি নয় তাই সে চুক্তির ধারা গুলো প্রকাশ না করাটা সংবিধান বিরোধী। ‘টিকফা’ চুক্তির ধারাসমূহ নিয়ে গোপনীয়তা ও রাখঢাক করার যে চেষ্টা চলছে তা সংবিধানের সাথে সাংঘর্শিক।
টিকফা চুক্তি কি বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়াবে? বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি বাড়াবে?
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এ চুক্তি স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমাদের দেশে বিনিয়োগ কয়েক গুণ বাড়বে, সেই সাথে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়বে আমাদের পণ্য রফতানিও। এশিয়ার দুটি প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি গণচীন এবং ভারত তার রফতানির যথাক্রমে ২১ এবং ১৯% পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করলেও তারা এই চুক্তি স্বাক্ষর করেনি। অর্থাৎ টিকফা চুক্তি স্বাক্ষরের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানির সম্পর্ক নেই। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য রফতানিতে প্রধান বাধা হচ্ছে শুল্ক বাধা। বর্তমানে বাংলাদেশি পোশাক রফতানিকারকদের যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১৫.৩% শুল্ক দিতে হয় অন্যদিকে চীনকে পরিশোধ করতে হয় মাত্র ৩% । তাহলে দেখা যাচ্ছে চীন টিফা চুক্তি স্বাক্ষর না করেও বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম শুল্কে পণ্য রফতানি করতে পারছে। তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের লোভ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য এদেশের উপর চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে কিন্তু টিকফা এগ্রিমেন্টে তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের কোন নিশ্চয়তা রাখা হয়নি কারণ প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে উভয় দেশ নিজ নিজ বাজারে পণ্য প্রবেশে নন ট্যারিফ বা অশুল্ক বাধা দূর করবে। কিন্তু বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অশুল্ক বাধা খুব সামান্যই।
যুক্তরাষ্ট্র কেন এই চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য এতটা আগ্রহী?
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বাইরে স্বল্পোন্নত দেশের উপর আধিপত্য বিস্তারের জন্যই আমেরিকা সহযোগিতামূলক উদ্যোগের ছদ্মাবরণে টিফা বা টিকফার মত দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলো করার চেষ্টা করছে। যদি স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বেড়াজালে আবদ্ধ করা যায় তবে আন্তর্জাতিক বহুপাক্ষিক ফোরাম ডব্লিউ,টি,ও এ আমেরিকা তার আধিপত্যবাদী বাণিজ্য নীতি বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে। এই লক্ষ্যেই পাকিস্তান,সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, ইরাক, উরুগুয়েসহ বিশ্বের ৩০ টিরও বেশি দেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই টিফা চুক্তি সাক্ষর করেছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর নেতা হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তৃতীয় বিশ্বের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছে। বিশ্বব্যাপী পরাশক্তিগুলোর অর্থনৈতিক আধিপত্যের বিপরীতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষার জন্য এসব ফোরামে বাংলাদেশ যাতে কোন ভূমিকা না রাখতে পারে সেজন্য বাংলাদেশকেও টিকফা চুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনীয়তা বোধ করছে যুক্তরাষ্ট্র কেননা টিকফা স্বাক্ষর হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়া আর সম্ভব হবে না। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তার প্রশ্নে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশকে দেখতে চায়। কারণ যুক্তরাষ্ট্র মনে করে গণচীনের অব্যাহত উন্নয়ন ও পরাশক্তি হিসেবে চীনের অভাবনীয় অগ্রগতি ঠেকাতে এবং দক্ষিন এশিয়ার বিশাল বাজারের উপর নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে হলে বঙ্গোপসাগরে এবং ভারতমহাসাগরে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি বজায় রাখতে হবে। আর বঙ্গোপসাগরে নিরাপত্তা বজায় রাখতে হলে বাংলাদেশ ভূরাজনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে তথাকথিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আঞ্চলিক পার্টনার বানাতে আগ্রহী। ভূরাজনৈতিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ঢাকার কাছ থেকে অধিকতর সহযোগিতার জন্যই যুক্তরাষ্ট্র টিকফা চুক্তি স্বাক্ষর করতে চাচ্ছে কেননা এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ মার্কিন বলয়ে আরও বেশি সম্পৃক্ত হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য যে, দোহায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সম্মেলনে গৃহীত ‘দোহা ডেভেলপমেন্ট এজেন্ডার’ মূল বিষয়গুলো হলো—অ-কৃষিপণ্যের বাজার উন্মুক্তকরণ, কৃষি থেকে ভর্তুকি প্রত্যাহার, মেধাজাত সম্পত্তি অধিকার (ট্রিপস) এবং সার্ভিস বা পরিবেশ খাতে বিনিয়োগ উদারিকরণ ইত্যাদি। কিন্তু এসব বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের স্বার্থ অভিন্ন নয়। বরং এসব ক্ষেত্রে মার্কিনের স্বার্থের সাথে বাংলাদেশের স্বার্থের গুরুতর বিরোধ আছে। অথচ ‘সোফা’ চুক্তির সুবাদে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে মার্কিনের পক্ষে এবং স্বল্পোন্নত দেশের বিপক্ষে বাংলাদেশকে দাঁড় করানোর সুযোগ পাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিপাক্ষিক ‘সোফা’ চুক্তিকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে অবস্থান নিতে বাধ্য করতে পারবে। একথা সকলেই জানেন যে, বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশগুলো তাদের অভিন্ন ও সাধারণ স্বার্থ সংরক্ষণে সম্মিলিতভাবে আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক নানা ফোরামে অবস্থান নিতে পারে। কিন্তু টিফার মতো দ্বিপাক্ষিক চুক্তির কারণে বাংলাদেশ তা স্বাধীন মতো করতে পারবে না। শুধু তাই নয় বহুপক্ষীয়ভাবে যে কোনো বিরোধ নিরসনের সুযোগ হারাবে বাংলাদেশ। ‘টিকফা’ চুক্তির কারণে বাংলাদেশ তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আন্তর্জাতিক পরিসরে বহুপাক্ষিকভাবে প্রচেষ্টা চালাবার সুযোগ নিরঙ্কুশভাবে পাবে না। উপরন্তু বাণিজ্য সমস্যা বহুপক্ষীয়ভাবে সমাধানের বদলে তা মার্কিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধানের ফাঁদে পড়বে বাংলাদেশ। একপক্ষ প্রবল শক্তিশালী হলে দ্বিপাক্ষিক সমস্যার সমাধান স্বাভাবিক কারণেই দুর্বলের নয় বরং সবলের পক্ষেই যায়। সে কারণে বাংলাদেশকে সব সময়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে।
জিএস পিসুবিধার পাবার প্রশ্নের সাথে কি টিকফা চুক্তি যুক্ত?
ঢাকায় নিয়োজিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা গত ২৮ জুলাই আবারো এই চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, “টিকফা চুক্তি সই না করলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে না।“ টিকফা চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে দরকষাকষিকে ‘অস্বস্তিকর’ বিষয় উল্লেখ করে তিনি জানতে চান, “এতে খারাপ কী আছে? আমি তো খারাপ কিছু দেখছি না।” টিকফার সাথে জি এস পি সুবিধার কোন সম্পর্ক নেই। দোহা নীতি অনুসারে আমেরিকা স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ৯৭% পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেয়ার কথা যেটাকে সাধারণভাবে জি এস পি সুবিধা বলা হয়। আমেরিকা ঠিকই বাংলাদেশের ৯৭% পণ্যের ক্ষেত্রে এই সুবিধা দিয়েছে তবে তাতে ঐসব পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যার রপ্তানির পরিমান খুবই কম। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাককে এর বাইরে রাখা হয়েছে। সেই সব পণ্যের জন্য জি এস পি সুবিধা থাকা আর না সমান কথা। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের যে গার্মেন্টস পণ্য রফতানি হয় তার ওপর উচ্চহারে শুল্ক বসিয়ে রেখেছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের গড় আমদানি শুল্ক হার শতকরা ১ ভাগের মতো। কিন্তু বাংলাদেশের গার্মেন্টসের ওপর শুল্কহার শতকরা গড়ে ১৫ ভাগ। এই শুল্কহার আন্তর্জাতিক বিধিরও পরিপন্থী। এই শুল্ক এমনিতেই বাতিল হওয়া দরকার। এবছরও বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রকে শুল্কবাবদ প্রদান করেছে প্রায় ৫৬০০ কোটি টাকা। এটা যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে ঋণ অনুদান নানাভাবে বাংলাদেশে আসে আসে তার ৬ গুণেরও বেশি। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে নয়, বাংলাদেশই যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থের যোগান দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: www.banglamail24.com
0 comments

বাংলাদেশের জনপ্রিয় সব টিউটোরিয়াল সাইট নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য


বাংলাদেশে এখন বিভিন্ন ওয়েব ল্যাঙ্গুয়েজ শেখার জন্য বেশ কয়েকটি টিউটোরিয়াল ভিত্তিক সাইট আপনি পাবেন যা আপনাকে যথেষ্টই সাহায্য করবে। এখানে ভিডিওর মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট বর্ননা এবং সরলোক্তি একজন শিক্ষানবীশের জন্য সহজবোধ্য। চলুন পরিচিত হই তেমন কিছু সাইটের সাথে
টিউটোরিয়াল বিডিঃ
মাহবুব হাসানের পরিচালনায় চলছে দারুন কিছু টিউটোরিয়াল দিয়ে সাজানো ‘টিউটোরিয়ালবিডি’। এখানে আপনি এইচটিএমএল এর বিস্তারিত টিউটোরিয়াল পাচ্ছেন নিয়মিত বিরতিতে। পাচ্ছেন সি++, জাভাস্ক্রিপ্ট, জে কোয়ারি সহ অন্যান্য কিছুরও দারুন সব টিউটোরিয়াল।
এখানে,
এইচটিএমএল নিয়ে রয়েছে ৪০ টি ভিডিও টিউটোরিয়াল
সি++ নিয়ে রয়েছে ৪৫ টি ভিডিও টিউটোরিয়াল
জাভাস্ক্রিপ্ট নিয়ে রয়েছে ২৪ টি ভিডিও টিউটোরিয়াল
জে কোয়ারি নিয়ে রয়েছে ১২ টি ভিডিও টিউটোরিয়াল
এছাড়াও সিএসএস, ওয়েব হোষ্ট ম্যানেজার, কম্পিউটার হার্ডওয়ার, ফ্ল্যাশ, ভিজুয়াল ব্যাসিক, থ্রিডি স্টুডিও ম্যাক্স, ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর।
টিউটোরিয়ালবিডিতে রয়েছে এইচটিএমএল, সিএসএস এর উপর পরিপূর্ন ই-বুক। ওয়ার্ডপ্রেসের উপর প্রাথমিক সম্পাদিত ই-বুক। ঘুরে আসতে পারেন টিউটোরিয়াল বিডি থেকে।
টিউটোরিয়াল ফর মিঃ
আমিনুল ইসলাম সজীবের পরিচালনায় চলছে আরেকটি টিউটোরিয়াল ভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘টিউটোরিয়াল ফর মি’। তবে এখানে মূলত ভিডিও টিউটোরিয়ালের চেয়ে প্রাধান্য পায় সহজ ভাষায় কনটেন্ট টিউটোরিয়াল যেটা অনেকেরই উপকারে আসবে। থাকছে এইচটিএমএল, সিএসএস, পিএইচপি, জাভা স্ক্রিপ্ট, জে কোয়ারি নিয়ে চমৎকার সব পোষ্ট।
রয়েছে গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এবং ওয়েব ডিজাইনিং এর আনুষঙ্গিক টিউটরিয়ালগুলোও। ঘুরে আসুন টিউটোরিয়াল ফর মি সাইট থেকে।
আরআর ফাউন্ডেশনঃ
রাসেল আহমেদের আত্নিক প্রচেষ্টায় এগিয়ে চলেছে ‘আরআর ফাউন্ডেশন’। এই সময়ে টিউটোরিয়াল নিয়ে চমৎকার সব পোষ্ট আর ভিডিও নির্দেশনায় নজর কেড়েছে সবার। সহজ ভাষায় কঠিন কঠিন বিষয়গুলো তুলে এনেছে সুন্দরভাবে। নিজের শুরুটা অনেক প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে দিয়ে হলেও অন্যদের যেন তেমন অবস্থায় পড়তে না হয় সেটা ভেবেই তিনি তৈরি করেছেন ছোট ছোট অসংখ্য ভিডিও টিউটোরিয়াল। সবচেয়ে আকর্ষক তার বলার ভঙ্গি যে কারনে অনেকেই চোখ রাখছেন তার সকল পোষ্ট এবং ভিডিওর দিকে।
আপনি এখানে যেসব টিউটোরিয়াল পাবেনঃ
*এইচটিএমএল
*সিএসএস
*সিএসএস ফ্রেমওয়ার্ক
*পিএইচডি টু এইচটিএমএল
*জাভাস্ক্রিপ্ট
*ওয়ার্ডপ্রেস
*অন্যান্য
এছাড়াও সিরিজ যেসব টিউটোরিয়াল পাবেনঃ
*বেসিক এইচটিএমএল
*বেসিক ওয়ার্ডপ্রেস
*এইচটিএমএল টু ওয়ার্ডপ্রেস
*ওয়ার্ডপ্রেস থিম ডেভেলপমেন্ট
*টুইটার বুটস্ট্র্যাপ
*পিএইচডি টু ইমেইল টেম্পলেট
আরআর ফাউন্ডেশন তাদের সমস্ত টিউটোরিয়াল ডিভিডি আকারে আগ্রহীদের জন্য দিচ্ছেন, আপনি ইচ্ছে করলে এটা কুরিয়ারেও নিতে পারেন। ঘুরে আসুন আরআর ফাউন্ডেশন থেকে।

প্রযুক্তি টিমঃ
হাসান যোবায়েরের তত্ত্বাবধায়নে চলছে টিউটোরিয়াল ভিত্তিক দারুন একটি সাইট ‘প্রযুক্তি টিম’। ওয়েব ডিজাইনে সাথে আছেন সাইফুল ইসলাম, আছেন আরিফুল ইসলাম শাওন।
তাদের তৈরি টিউটোরিয়ালগুলোও এখন বেশ জনপ্রিয়। আপনি খুব সহজেই শিখে নিতে পারেন এইসব টিউটোরিয়াল থেকে। এই সাইটে বিভিন্ন বিষয়ের উপরে রয়েছে প্রায় ১১৩ টি চমৎকার এবং অনন্য সব টিউটোরিয়াল।
যেখানেঃ
ফটোশপ নিয়ে রয়েছে ৫২ টি চমৎকার ভিডিও টিউটোরিয়াল
ইলাস্ট্রেটর নিয়ে রয়েছে ১৭ টি ভিডিও টিউটোরিয়াল
বিজনেস কার্ড ডিজাইন নিয়ে ৪ টি টিউটোরিয়াল
লোগো ডিজাইন নিয়ে ৪ টি টিউটোরিয়াল
ওয়েব ডিজাইন নিয়ে ১০ টি টিউটোরিয়াল
সি# প্রোগ্রামিং নিয়ে ১০ টি টিউটোরিয়াল
সিএসএস নিয়ে ৪ টি টিউটোরিয়াল
পিএইচডি টু এইচটিএমএল নিয়ে ৬ টি টিউটোরিয়াল
এছাড়া বিভিন্ন প্রযুক্তি পন্যের রিভিউ, সফটওয়ার সম্পর্কাদি প্রয়োজনে দরকারে লাগবে এই সাইটটি। ঘুরে আসুন প্রযুক্তি টিম থেকে।
শিক্ষক ডট কমঃ
ডাঃ রাগীব হাসানের তত্ত্বাবধায়নে বলতে গেলে অনলাইন শিক্ষায় রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছে ‘শিক্ষক ডট কম’ । এখানে আপনি সরাসরি পড়তে পারছেন যেকোন প্রযুক্তি বিষয়ক অংশে কিংবা একাডেমিক বিষয়গুলোও। রাগীব হাসানের ভাষায়
‘এই সাইটে বাংলা ভাষায় নানা বিষয়ের উপরে অনলাইনে শিক্ষা দেয়া হবে। প্রতিটি কোর্স হবে মুক্ত, অর্থাৎ যে কেউ বিনামূল্যে এই কোর্সগুলোর সুবিধা নিতে পারবেন। প্রতিটি কোর্সে থাকবে লেকচার নোট এবং কোর্সের মূল্যায়ণের জন্য কুইজ।‘
এখানে আপনি ইচ্ছে করলেই শিখতে পারেন এইচটিএমএল, সিএসএস এর মতো প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। পড়তে পারেন পরিবেশ বিজ্ঞান, কেমি কৌশল, জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়েও। অবাক হবেন যখন দেখবেন এখানে আপনার জন্য রয়েছে নিউরো সায়েন্স কিংবা ক্যান্সার ন্যানো টেকনোলজির মতো বিষয়ও। এক কথায় শিক্ষক ডট কমের প্রকৃতঅর্থেই আপনাকে শিক্ষা দিচ্ছে যেকন বিষয়ে। শুধুমাত্র মোবাইল কিংবা পিসিতে ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি হতে পারেন তাদের একজন শিক্ষার্থী!
আজ এ পর্যন্তই, সামনে পর্বে আরও কিছু টিউটোরিয়াল সাইট নিয়ে কথা বলার আশা রাখি। ভালো থাকুন নিয়তই...আর হ্যা, প্রশ্ন থাকলে মন্তব্য করবেন অবশ্যই
সুডোটেকে পূর্বে প্রকাশিত
1 comments
Flag Counter
 
Helped By : Copyright © 2014. বাউনডুলে - All Rights Reserved
Proudly powered by Blogger